food_recipe_of_tomato_rice-daraz.com.bd

ফুড রেসিপি – টমেটো রাইসঃ মজাদার খাবারটি রান্না করবেন যেভাবে

প্রতিদিনের সাধারণ খাবারের মেন্যুতে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছেন? নিত্যদিনের স্বাদে কিছুটা ভিন্নতা আনা দরকার? তাহলে অবসরে চোখের পলকে বানিয়ে ফেলতে পারেন মজাদার টমেটো রাইস। টমেটো রাইস শুধু খাবারের স্বাদে ভিন্নতা আনবে তা নয়, রান্নার প্রস্তুতিতে যোগ করবে এক নতুন অভিজ্ঞতা। তাই আর দেরি না করে খুব সহজ কৌশল অবলম্বন করে মজাদার টমেটো রাইস রান্নার সফল চেষ্টা করে ফেলতে পারেন বাসায় বসে।

ফুড রেসিপিঃ মুখরোচক টমেটো রাইস রান্নার সহজ উপায়

টমেটো রাইস রান্নার উপাদানঃ

  • চাল ১ কাপ
  • মটরশুঁটি ১/৪ কাপ
  • কর্ন ১/৪ কাপ
  • গাজর ১/৪ কাপ
  • মুরগির মাংস ১/৪ কাপ ডাইস করে কাটা
  • গরুর মাংস ১/৪ কাপ ডাইস করে কাটা
  • টমেটো ১টি
  • লবন ১ টেবিল চামচ
  • তেল ২ টেবিল চামচ
  • পানি ১ কাপ

টমেটো রাইস রন্ধন প্রণালীঃ

চিকেন কিউব ও বীফ কিউব গুলো লেবু দিয়ে ম্যারিনেড করে ৩০ মিনিটের জন্য রেখে দিন। এখন ম্যারিনেট করে রাখা চিকেন এবং বীফ কিউব সমূহ গ্যাস স্টোভ -এ রাখা পাত্রে ভাল ভাবে ভেজে নিন। এরপর রাইস কুকারে পানি ঝরানো চাল, গাজর, কর্ন, মিক্সড ভেজিটেবল দিয়ে কিছুক্ষন নাড়তে থাকুন। তারপর মিশ্রণটিতে ভেজে রাখা মাংস গুলো দিয়ে আরো কিছুক্ষন নাড়ুন। কিছু সময় পরে চাল সরিয়ে কুকারের ঠিক মাঝ বরাবর একটি আস্ত টমেটো বসিয়ে দিন। এরপর পানি দিয়ে ১০ মিনিটের জন্য ঢেকে দিন, পানি শুকিয়ে গেলে আরও কিছুক্ষণ নেড়ে উঠিয়ে ফেলুন। একটি পাত্রে পরিবেশন করুন মজাদার টমেটো রাইস। আর ফ্রিজে রেখে খেতে চাইলে পরে সুবিধামত মাইক্রোওয়েভ ওভেনে গরম করেও এই লোভণীয় খাবারটি উপভোগ করতে পারেন।

কেমন লাগলো স্বুসাদু টমেটো রাইস রান্নার সহজ রেসিপিটি? কমেন্ট করে জানিয়ে রাখতে পারেন। নতুন কোন ফুড রেসিপির আইডিয়া থাকলে আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন।

আরও পড়ুন,

ফুড রেসিপি – মেক্সিকান রাইসঃ ভিন্ন স্বাদের খাবার রান্নার সহজ সমাধান

pakora_food_recipe-daraz.com.bd

ফুড রেসিপিঃ কুমড়া পাকোড়া – ঝটপট বানিয়ে ফেলুন ঘরে বসে

নাস্তায় নতুনত্ব আনতে বাইরের খাবারের উপর ভরসা আর কত দিন? তার উপর তেল সহ অন্যান্য রান্না উপকরণের ব্যবহার নিয়ে তো দুশ্চিন্তা রয়েই যায়। এত কিছু ভাবার পর আপনার মাথায় মনের অজান্তেই চিন্তা চলে আসতে পারে, পছন্দের সব ধরণের মুখরোচক খাবার যদি তৈরী করা যেত বাসায়! হ্যা, এখন ঘরে বসেই মজাদার কুমড়া পাকোড়া কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই বানিয়ে ফেলা সম্ভব। এজন্য দেখে নিতে পারেন আমাদের সহজ কুমড়া পাকোড়া রেসিপিটি।

ফুড রেসিপিঃ কুমড়া পাকোড়া রেসিপি

প্রয়োজনীয় উপকরণ সমূহঃ

  • পিঁয়াজ কুঁচি ১টি
  • মিষ্টি কুমড়া ১ কাপ (ঝাঁঝরি করা)
  • লবন ১ চা চামচ
  • গোলমরিচ/হেলিপিনো কুঁচি ১টি
  • জিরা ১ চা চামচ
  • কালো জিরা ১ চা চামচ
  • আদা কুঁচি ১ চা চামচ
  • হলুদ গুঁড়া ১/২ চা চামচ
  • লবন ১ চা চামচ
  • বেসন ৩/৪ কাপ
  • চালের গুঁড়া ১ টেবিল চামচ
  • রোজমেরি/ ধনে পাতা ২ টেবিল চামচ
  • চাট মসলা

প্রস্তুত প্রনালীঃ

একটি বড় মিক্সিং বোলে পিঁয়াজকুচি, ঝাঁঝরি করা কুমড়া, লবন দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে নিন। এতে জিরা, কালোজিরা, আদা কুঁচি, হলুদ গুঁড়া মিশিয়ে নিন। এরপর মিশ্রণটিতে বেসন, চালের গুঁড়া ও ১/৩ কাপ পানি মিশিয়ে নিন। ঝামেলা এড়াতে ব্লেন্ডার মেশিন অথবা মিক্সার এর সাহায্য নিতে পারেন।

মিশ্রনের সাথে রোজমেরি পাউডার মিশিয়ে নিন। একটি প্যানে তেল গরম করুন। গরম তেলে মিশ্রণটি একটু একটু নিয়ে ভেজে নিন। ব্যস তৈরী হয়ে গেলো মজাদার কুমড়া পাকোড়া। যদি পাকোড়া ফ্রিজ -এ রেখে খেতে চান, তবে সাথে সাথেই না খেয়ে খাবারটি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় নিয়ে খাওয়াটাই স্বাস্থ্যের জন্য ভাল বলে বিবেচিত।

আরও দেখতে পারেন,

ফুড রেসিপিঃ প্রন রিসোট্টো – ঘরোয়া পদ্ধতিতে সহজে রান্না করবেন যেভাবে

sehri_for_ramadan-daraz.com.bd

তীব্র গরমে সেহেরীর খাবার তালিকা যেমন হওয়া উচিৎ

বছর ঘুরে আবারও দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেছে পবিত্র মাহে রমজান। এসময় ভোর রাতের সেহেরী থেকে ইফতারের মাধ্যমে রোজা ভাঙ্গার আগ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকতে হয়। তাই সেহেরী হতে হবে পরিকল্পিত ও স্বাস্থ্যকর যেন সারাদিন রোজা রাখার শক্তি পাওয়া যায়। বিশেষ করে এবারের কাঠফাটা গরমে আলাদাভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে সেহেরীর খাবার তালিকার দিকে- নইলে অসুস্থ হয়ে পড়াসহ দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেওয়াটা মোটেও বিচিত্র নয়। অনেকেই আবার সারাদিন না খেয়ে থাকতে হবে বলে সেহেরীতে যত বেশি সম্ভব খেয়ে নেওয়া যায়- এমন পন্থা অবলম্বন করেন যা মোটেও স্বাস্থসম্মত নয়। বরং সেহেরীর খাবার এমন হওয়া দরকার যেন তা সারাদিনের দেহের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারে, আবার এত অতিরিক্ত খাওয়াটাও উচিৎ না, যা আপনাকে অসুস্থ করে ফেলে।

সেহেরীতে সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাবার তালিকা তৈরীতে যেসব বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখা দরকার

সেহেরিতে যেসব খাবার খাওয়া যেতে পারে-

ভাত – রুটি

সেহেরি হচ্ছে রমজানের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় খাবার। এতে এমন ধরণের খাবার খাওয়া উচিৎ, যা হজম হতে সময় লাগে এবং দীর্ঘক্ষণ কর্মশক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে। একারণে সেহেরির খাদ্য তালিকায় শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট সম্পন্ন খাবার রাখা উচিৎ। কারণ কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার ধীরে ধীরে রক্তে গ্লুকোজ দেয় এবং খাদ্যে আঁশের চাহিদা জোগায়। ঢেঁকিছাঁটা চাল, লাল আটার রুটি, আলু, চিড়া, ওটস, সিরিয়াল, বার্লি -এই খাবারগুলোতে যথেষ্ট পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট থাকে। এছাড়া ধীরগতিতে হজম হয় এবং হজম হতে প্রায় ৮ ঘণ্টা লাগে বলে এসব খাবার খেলে দিনের বেলায় কম ক্ষুধা লাগে। তাই সেহেরীর খাদ্য তালিকার একটা বড় অংশ জুড়ে এসব খাবার রাখলে তা আপনাকে রোজার দীর্ঘ উপবাসের সময়ও সারাদিন সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখবে।

প্রোটিন জাতীয় খাবার

সেহরিতে আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাবার থাকলে তা আপনার দেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সারাদিন আপনাকে শক্তি যোগাবে। মাছ, মাংস, দুধ, দুধজাত খাবার, ডিম, ডাল প্রভৃতি খাবার প্রোটিনের ভালো উৎস। এছাড়া এসব খাবারে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, জিংক, আয়রন প্রভৃতি পুষ্টি উপাদানও প্রচুর পরিমাণে থাকে, যা আপনার হাড়ের সুস্থতার জন্য জরুরি। বিশেষ ভাবে সেহেরীতে দুধ আপনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ খাবার হতে পারে। লো ফ্যাট দুধ রক্তের কোলেস্টেরল বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া দুধজাতীয় বিভিন্ন খাবার যেমন দই, ছানা প্রভৃতি কিংবা কলা ও আম সহ দুধভাত রোজার সময়ে আপনার শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগাবে। মাছ বা মাংসের বদলে সেহেরীর খাবারে একটি ডিম থাকলেও তা আপনাকে প্রয়োজনীয় শক্তির চাহিদা পূরণ করতে পারে।

তাজা সবজি

ভিটামিন শরীরের জন্য খুবই দরকারী একটি পুষ্টি উপাদান। তাজা শাকসবজি দেহের প্রয়োজনীয় ভিটামিনের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস। তাই সেহরিতে প্রতিদিন সবজি খাওয়া উচিৎ। তবে রাতের খাবারে অতিরিক্ত আঁশযুক্ত সবজি খাওয়া ঠিক না। কারণ অতিরিক্ত ফাইবার সমৃদ্ধ সবজি হজমের ঝামেলা করতে পারে। তার বদলে সেহেরীতে মাঝারি আঁশের সবজি যেমন- ঝিঙে, চিচিংগা, লাউ, পেঁপে, চালকুমড়া, গাজর প্রভৃতি খাওয়াটা বেশি স্বাস্থ্যসম্মত।

ফলমূল

সেহেরীর খাবারের পর ফল খেলে তা দিনের বাকী সময়টায় আপনার শরীরের প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা পূরণ করতে সাহায্য করবে। তবে এক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা উচিৎ। ভোররাতে টক জাতীয় ফল না খাওয়াই ভালো। এর ফলে অ্যাসিডিটির ঝুঁকি বাড়ে। মাঝারি আঁশযুক্ত ও নরম পাকা ফল এক্ষেত্রে বেশি উপকারী। পেঁপে, কলা, আম ইত্যাদি অথবা বিভিন্ন মৌসুমী ফলের ও দুধের তৈরি কাস্টার্ড খাওয়া যেতে পারে। এইসব সুস্বাদু ফল ও ফলজাত খাবার দেহের পুষ্টি উপাদান ও পানির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দীর্ঘসময় শরীরের শক্তি যোগায়।

তরল জাতীয় খাবার

রোজা রাখার অন্যতম স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা হচ্ছে শরীরের পানি ঘাটতি। তাই যেসব খাবার পানিশূণ্যতা দূর করে, সেহেরির খাদ্য তালিকায় সেসব খাবার যোগ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ডাবের পানি, শসা, আনারস, টমেটো, কমলা ও তরমুজ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য হতে পারে। এছাড়া সেহেরিতে পর্যাপ্ত পরিমান পানি পান করা উচিৎ যেন সারাদিনের পানি ঘাটতি পূরণ হয়। তবে তাই বলে গলা পর্যন্ত পানি পান করা উচিৎ না। বরং কিছুটা ফাঁকা রাখুন। খুব ঠান্ডা এবং খুব গরম পানি পান করা উচিৎ না। এ ছাড়া তরল খাবার হিসেবে দুধ, পাতলা সাগু, সাবু বা বার্লি, সুজি, স্যুপ, আঙ্গুরের রস ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে সেহেরীতে। জুসের জন্য বাইরে থেকে কেনা জুস না খেয়ে বাড়িতে ব্লেন্ডার মেশিন দিয়ে ফলের রস কিংবা জুস বানিয়ে নেয়া উত্তম।

সেহেরীতে যেসব খাবার এড়িয়ে চলাই ভাল-

সেহেরির সময় বেশি তৈলাক্ত, মসলাদার এবং ঝাল খাবার খাওয়া উচিৎ না। সেক্ষেত্রে সেহেরির খাদ্য তালিকা থেকে বিরিয়ানী, পোলাও, তেহারি প্রভৃতি ভারি ধরণের খাবার বাদ দিতে পারেন। কারণ সেহেরীতে এসব খাবার খেলে বদহজম, বুক জ্বালাপোড়া করা এবং পেট ফাঁপার সমস্যা হতে পারে। অনেকেরই সেহরিতে চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস আছে। কিন্তু এসব পানীয়তে ক্যাফেইন থাকে, যা মূত্রের পরিমাণ বাড়ায়, ফলে শরীরের পানির পরিমাণ কমে যায় এবং খুব তাড়াতাড়ি তৃষ্ণা পায়। তাই সেহেরিতে এসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিৎ। পানিশূণ্যতা বাড়ায় বলে সেহেরির সময় অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার খাওয়া উচিৎ নয়।

প্রচন্ড গরমে রোজা রেখে সুস্থ থাকতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই সেহেরির খাবারের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ সঠিক খাদ্যাভাস না মেনে রোজা রাখলে খুব সহজেই অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। বিশেষ করে দেহে পানিশূন্যতা যাতে না হয় সেজন্য বেশি খেয়াল রাখতে হবে। আর অবশ্যই রোজা রাখতে চাইলে সেহেরি খাওয়ার ব্যাপারে কোনো ছাড় দেবেন না। তাহলে আশা করি এই গরমেও রোজা রাখতে খুব বেশি সমস্যায় পড়বেন না।

আরো দেখুনঃ ইফতার খাবার তালিকা

iftar_for_ramadan-daraz.com.bd

পবিত্র মাহে রমজানে সুস্থ থাকতে চাই স্বাস্থ্যকর ইফতার

বাইরে এখন গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদ। এর মধ্যেই বছর ঘুরে হাজির হয়েছে পবিত্র মাহে রমজান। তাই বলে কি রোজা রাখবেন না? এই গরমে সারাদিন না খেয়ে থাকাটা স্বাস্থ্যের জন্য বিরাট ঝুঁকি হতে পারে যদি না ইফতারের সময় টেবিলে থাকে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার। ইফতারে পুষ্টিকর খাবার মেনু শুধু আপনার সারাদিনের পুষ্টির চাহিদাই পূরণ করবে না, সাথে যোগাবে সুস্থ শরীরে পরের দিন রোজা রাখার শক্তি। তাই শুধু ইফতার ও সেহরীর সময়সূচী ২০১৯ জানলেই হবে না, সেই সাথে জানতে হবে কিভাবে গরমের মধ্যেও ইফতারের সঠিক নিয়ম মেনে সুস্থ থাকতে হয়।

রমজান মানেই টেবিলভর্তি বিভিন্ন মজাদার ইফতার আয়োজন। ঘরে ঘরে গৃহিণীদেরও ইচ্ছে থাকে ইফতারের আয়োজনটা হোক কিছুটা আলাদা। তাই রোজার মাস এলেই চারিদিকে দেখা যায় হরেক রকমের ইফতার আইটেম এর রেসিপি। কিন্তু প্রায়ই আমরা ইফতারের গুরুত্বকে অবহেলা করে অস্বাস্থ্যকর ইফতার রেসিপিতে ভর্তি করে ফেলি ইফতারি খাবার টেবিল- যা একেবারেই অনুচিত। এছাড়া আমাদের দেশে সারাদিন না খেয়ে থেকে ইফতারে তেলে ভাজা ও চর্বি সমৃদ্ধ খাবারের অভ্যাস দেখা যায়, যা তৈরী করতে পারে মারাত্নক স্বাস্থ্য ঝুঁকি।

এই গরমে ইফতারের খাবার উপাদান হিসেবে যেসব আইটেম থাকা দরকার প্রতিদিনকার ইফতারি আয়োজনে

পুষ্টিকর পানীয়

রমজান এলেই বিভিন্ন আকর্ষণীয় ইফতার রেসিপি দেখা যায় টিভিতে, পত্রিকায়, সবখানে। কিন্তু সেই তুলনায় পুষ্টিকর তরল খাবার নিয়ে সচেতনতা দেখা যায় না। অথচ গরমে সারাদিন রোজা রাখলে দেহে দেখা দেয় মারাত্নক পানিশূন্যতা। শরীরের পানির এই ঘাটতি পূরণ করতে ইফতারে বেশি করে পুষ্টিকর পানীয় রাখতে হবে। ইফতারে পানীয় হিসেবে রুহ আফজা, ট্যাং ও লেবুর সরবত জনপ্রিয়। কিন্তু দেহের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে ইফতার টেবিলে রাখতে পারেন বিভিন্ন তাজা ফলের জুস, লেবু পানি, কচি ডাবের পানি, আখের রস ও গুড়ের শরবত প্রভৃতি। এছাড়া শরবত তৈরিতে ব্রাউন সুগার, তাল মিছরি, গুড় ও মধুর ব্যবহার আপনার পানির চাহিদার পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদাও পূরণ করবে শতভাগ।

মৌসুমী ফল

বর্তমানে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে আম, লিচু, জাম, কাঁঠাল, আনারস সহ গ্রীষ্মের বিভিন্ন মৌসুমী ফল। আমাদের দেশে ইফতার ফল দিয়ে করার খুব একটা প্রচলন নেই। যদিও পৃথিবীর অনেক দেশেই ইফতারে ফলাহার করার রীতি রয়েছে। এইসব মৌসুমি ফল একইসাথে সুস্বাদু, পুষ্টিকর ও পানিশূন্যতা দূর করতে অতুলনীয়। কারণ ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পানি, ভিটামিন ও মিনারেল, যা আপনাকে এই গরমে রাখবে সুস্থ। এছাড়া ফলের তৈরী বিভিন্ন খাবার ও মিষ্টিজাতীয় ডেজার্ট রাখতে পারেন ইফতারের উল্লেখযোগ্য খাবার হিসেবে।

কাঁচা ছোলা

বাংলাদেশে ইফতারে ছোলা একটি জনপ্রিয় খাবার। ছোলায় প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে। তবে অতিরিক্ত তেল ও মসলায় ভুনা ছোলা অনেক সময় উপকারের থেকে ক্ষতিই করে বেশি। তারচেয়ে বেশি উপকার পেতে পারেন কাঁচা ছোলায়। ছোলা ভাল করে ধুয়ে সারারাত ভিজিয়ে ইফতারের আগে আগে পেঁয়াজ, রসূন, মরিচ, আদা ও খাঁটি সরিষার তেল দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে পরিবেশন করতে পারেন। এছাড়া সিদ্ধ ছোলার সাথে পেঁয়াজ, মরিচ, শশা, টমেটো ইত্যাদি মিশিয়ে খেলেও অনেক খাদ্য আঁশ ও প্রোটিন পাওয়া যায়, যা আপনার ক্লান্ত শরীরে যোগাবে প্রয়োজনীয় প্রাণ শক্তি।

মিষ্টি জাতীয় খাবার

ইফতারে চিড়া, খেজুর ও আখের গুড়, পাটালি, জিলাপি ও বন্দিয়া জাতীয় খাবারের প্রচলন রয়েছে আমাদের দেশে। তবে ইফতারিতে একটি আদর্শ খাবার হতে পারে দই-চিড়া ও দুধ-চিড়া অথবা কলা-চিড়া ও আম-চিড়া। এইসব খাবার পেট ঠান্ডা রাখে ফলে গ্যাসের সমস্যা হওয়ার সম্ভবনা থাকে না। তাই সেহরি ও ইফতারের খাবার হিসেবে এই ধরণের খাবার বেশি পরিমাণে রাখতে পারেন মেনুতে। এছাড়া পরিমিত পরিমাণে মিষ্টান্নের সাথে দুধের তৈরি মিষ্টি জাতীয় খাবার যেমন ফালুদা, কাস্টার্ড, পুডিং, ফিরনি বা পায়েস ও সেমাই ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে চা-কফি কিংবা পেট গরম করে এমন খাবারের পরিমাণ যত কম খাওয়া যায় ততই মঙ্গল।

শাকসবজি

উচ্চ ভিটামিন সমৃদ্ধ শাকসবজি আপনাকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগায়, যা আপনার শরীরের জন্য অতি দরকারি। তাই মাঝে মাঝে চকবাজারের ইফতার খেতে পারেন, কিন্তু খেয়াল রাখবেন অধিকাংশ সময়ই যেন ইফতার আলুর চপ, অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার, হালিম, বিরিয়ানি প্রভৃতি কম থাকে। তারচেয়ে সবজি পাকোড়া, সবজীর স্যুপ, শাকের বড়া, বেগুনী ও রসূনের চপ প্রভৃতি খাবার বেশি উপকারি হতে পারে।

– এছাড়া ইফতারের ক্ষেত্রে যেসব বিষয় মনে রাখতে পারেন –

  • মাগরেবের আযান পড়ার সাথে সাথে খুব তাড়াহুড়া করে অধিক পরিমাণে ইফতার করা উচিৎ নয়। কারণ সারাদিন না খেয়ে থাকার পর একসাথে অনেক বেশি খাবার আপনার জন্য অপকারী হতে পারে। ধীরে ধীরে সময় নিয়ে ইফতার করুন।
  • অনেকেই ডায়েট ইফতার করেন যেটা একেবারেই উচিৎ না। সারাদিন না খেয়ে থেকে এমনিতেই আপনার শরীর দুর্বল থাকে। তাই ইফতারে ডায়েট না করে সুষম খাবার গ্রহণের প্রতি মনযোগী হওয়া উচিৎ।
  • চেষ্টা করবেন ইফতারে যেন সব ধরণের খাদ্য উপাদান থাকে।
  • ইফতারে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া ঠিক না। তারচেয়ে অল্প বিরতিতে কিছুক্ষণ পর পর খাবার গ্রহণ করতে পারেন।
  • ইফতার করার পরপরই ঘুমিয়ে পড়বেন না। কিছুটা হাঁটাচলা করুন।
  • প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন, ইদানিং গরম বেশি বলে আগেই পানি ফ্রিজ এ রাখতে পারেন কিংবা ফ্রিজের বরফ ব্যবহার করা যেতে পারে। মনে রাখবেন রোজা রাখার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পানিশুন্যতা, যা আপনাকে হিটস্ট্রোকের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তবে শুরুতেই একসাথে অনেক পানি পান করা অনুচিৎ।

আরো দেখুনঃ সেহেরীর খাবার তালিকা

css.php