শহরে মহামারি আকারে ডেঙ্গু জ্বর! আপনি সচেতন তো? 0 112

এবছর দেশের রাজধানী শহর ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ এতটাই বেশি যে, রোগটা কয়েকদিনের ভিতরেই মহামারি আকার ধারণ করেছে। নগরীর বর্তমান অবস্থা এমন যে, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে শহরের কর্মব্যস্ত মানুষ আরও অতিমাত্রায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। কিন্তু যদি বলেন, এমন ভয়ানক অবস্থায় আসলে করণীয় কি? এক্ষেত্রে সর্বপ্রথম করণীয় হবে আতঙ্ক পরিহার করে আরো বেশি মাত্রায় সচেতন হওয়া। অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় রোগী কোন প্রকার চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হয়ে যেতে পারেন, আবার অনেকক্ষেত্রে যথেষ্ঠ বিশ্রাম ও ওষুধে রোগী সেরে উঠতে পারেন, তবে কোন কারনে রোগটি যদি ডেঙ্গু শক সিনড্রোম কিংবা ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারে মোড় নেয়, সেক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে ক্ষেত্র বিশেষে হাসপাতালের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়াটাই শ্রেয়।

ডেঙ্গু জ্বরে করনীয় কি?

  • টানা ৫-৭ দিন জ্বর থাকার পর যদি সেটা ক্রিটিক্যাল অবস্থায় মোড় নেয়, তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
  • শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পট পড়া ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যাথা থাকতে পারে, অনেক সময়ে হঠাৎ করে কাশি, বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়ে যেতে পারে। এমন সময়ে সতর্ক থাকাটা বেশি জরুরী।
  • ডেঙ্গু শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গ বিকল করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, কিডনি, যকৃত সহ বিভিন্ন অঙ্গে ডেঙ্গু হানা দিতে পারে, এমনকি বুকে ও পেটে পানি জমার মত সমস্যাও দেখা দিতে পারে, এমতাবস্থায় হাসপাতালের আধুনিক চিকিৎসাই পারে আপনাকে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে।
  • ডেঙ্গু জ্বরে এবার একাধিক বার আক্রান্ত হওয়ার মত ঘটনাও ঘটেছে, তাই জ্বর আসলে কোন ভাবেই অবহেলা করা ঠিক হবে না।

নিজে সতর্ক হোন, অন্যকেও সচেতন করে তুলুন

  • বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকে, এসময় বাসার আশেপাশে জমে থাকা এক সপ্তাহের বেশি পানি সরিয়ে ফেলাই বাঞ্ছনীয়।
  • ঘুমানোর সময়ে সবচেয়ে বেশি যেটা দরকার, সেটা হল মশারীর ব্যবহার।
  • দিনের অন্যান্য সময়ে স্প্রে, ক্রীম বা লোশন খুব ভাল ভাবেই কাজে লাগতে পারে।
  • ঘরের আনাছে-কানাছে কিংবা ছাদের উপরে বা বাসার বাইরে পড়ে থাকা ব্যবহৃত চিপসের প্যাকেট, খালি বোতল এবং দই এর সরা জাতীয় যেকোন পাত্র অথবা কৌটা যথাসম্ভব দ্রুত সময়ে সরিয়ে ফেলতে হবে, মনে রাখবেন এসব জায়গায় জমে থাকা পানিতে এডিস মশা তাদের আধুনিক ফ্ল্যাট বাসা হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।
  • ঘরের ভিতরে ও বাইরে সহ সম্ভাব্য সকল স্থানে মশা নিরোধক ওষুধ স্প্রে করতে হবে।
  • আপনার বাসার ভিতর সহ বাইরের আনাছ-কানাছ যতটা সম্ভব পরিষ্কার করে রাখাটাই এ মুহূর্তে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
  • বাসার আশেপাশে যেন কোন মতে ময়লা পানি জমতে না পারে, সেদিকে নজর রাখতে হবে।

ডেঙ্গু জ্বরে প্রচুর পরিমাণে ডাবের পানি, খাবার স্যালাইন ও ফলের রস খান। জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল খান ও প্রয়োজনীয় বিশ্রাম গ্রহণ করুন। জ্বর সেরে ওঠার সময়েও বিভিন্ন সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে, তাই এসময়ে বাসায় যথেষ্ট বিশ্রাম জরুরী। রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রায় আছে কিনা, সেদিকেও লক্ষ্য রাখাটা জরুরী, যদি হঠাৎ করে রক্তচাপ কমে গিয়ে হাত-পা শীতল হয়ে আসতে শুরু করে কিংবা পেটে প্রচন্ড ব্যাথা হওয়া এবং শরীরে অস্থিরতা দেখা দেয়, সেক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালের চিকিৎসা নেওয়াটা অপরিহার্য হয়ে পড়বে। সর্বোপরি সঠিক সময়ে সাবধানতাই পারে একটি জীবন বাঁচিয়ে দিতে।

Previous ArticleNext Article

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

css.php