order from daraz boishakhi mela campaign

নববর্ষে বৈশাখী সাজ | ফ্যাশনে পহেলা বৈশাখ ১৪২৮

নানা রঙে, নানা রুপে আবার এলো পহেলা বৈশাখ

দেখতে দেখতে আরেকটা বছর চলে গেল। চলে এলো ১৪২৮ বঙ্গাব্দ।  প্রকৃতি যেন অধীর আগ্রহে গ্রীষ্মের আগমনের অপেক্ষা করছে। একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে গাছে গাছে ফুটেছে আমের মুকুল। রোদের তাপটাও যেন আস্তে আস্তে প্রখর হয়ে উঠছে। প্রকৃতির সাথে চলছে মানুষেরও নিজেদেরকে নতুন আঙ্গিকে দেখার প্রস্তুতি। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে অনেকেই হয়ত এরই মধ্যে বন্ধুদের সাথে ঘুরে বেড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন, আবার অনেকেই হয়ত পরিবার পরিজনদের সাথে নিরিবিলি সময় কাটানোর কথা ভাবছেন। প্ল্যান যাই হোক, উৎসবের আমেজ অনুভব করতে সাজসজ্জা আর পোশাক-আশাক বিশাল একটা ভূমিকা পালন করে। তাই বৈশাখী ফ্যাশনের নানান আইডিয়া নিয়ে সাজানো হয়েছে এই পোস্ট।

pohela boishakh online

বছরের প্রথম দিন নারীরা বেছে নিতে পারেন হালকা রঙের কটন, কোটা বা সিল্কের আটপৌরে মেয়েদের শাড়ি কিংবা সালোয়ার কামিজ। এছাড়া ফ্যাশন সচেতন তরুণীরা পরতে পারেন কুর্তি। গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে এসব রঙ এনে দিতে পারে স্বস্তি। বেছে নিতে পারেন হালকা গোলাপি, হালকা সবুজ কিংবা চিরাচরিত লাল পেড়ে সাদা শাড়ি। দিনের বেলার সাজের জন্য ট্রাই করতে পারেন ট্রেন্ডি “নো-মেকাপ” মেকাপ। হালকা কমপ্যাক্ট পাউডার, মাস্কারা, ব্লাশন এবং ন্যুড লিপস্টিক দিয়ে পেতে পারেন স্নিগ্ধ, নমনীয় একটা লুক। যদি গ্ল্যামারাস লুক চান সেক্ষেত্রে রাতের বেলার অনুষ্ঠানে জমকালো সাজে হয়ে উঠতে পারেন অনন্যা। ব্যবহার করতে পারেন আইশ্যাডো, হাইলাইটার এবং গাঢ়  লিপস্টিক আর পরতে পারেন জামদানী বা কাতান শাড়ি।

pohela boishakh mela

হালকা গহনা আপনার সাজ পরিপূর্ণ করে তুলবে। পরতে পারেন হাতভর্তি কাঁচের চুড়ি আর সাথে সিলভার বা গোল্ড ঝুমকা, ছোট- বড় রিং, সিম্পল চেন বা নেকলেস। সাজে কিছুটা অন্য মাত্রা যোগ করতে চুলে জড়িয়ে নিতে পারেন একগুচ্ছ সুবাসিত ফুল কিংবা হেয়ার স্ট্রেটনার বা কার্লার দিয়ে করে নিতে পারেন সুন্দর সব হেয়ারস্টাইল। এই ছাড়া পোশাকের অনুষঙ্গ হিসেবে মানানসই ব্যাগ, আরামদায়ক জুতো, সানগ্লাস আর মিষ্টি গন্ধের পারফিউম নাহলে আউটফিট অপূর্ণ রয়ে যায়। তাছাড়া হাতের ঘড়ির ডিজাইন দেখে পছন্দ করতে পারেন সেরা ঘড়িটিও।

boishakhi panjabi fashion

বছরের প্রথম দিন নারীদের পাশাপাশি পুরুষরাও নানান রকম সাজপোশাকে নিজেদের রুচি উপস্থাপন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে বেছে নিতে পারেন পাঞ্জাবি, কিংবা একটু ভিন্নধর্মী ফতুয়া বা খাটো পাঞ্জাবী এবং সাথে পরতে পারেন ক্লাসিক জিনস বা পায়জামা। তবে এক্ষেত্রে পাঞ্জাবি ডিজাইন ২০২১ ছবি দেখে দারাজ থেকে সহজেই সংগ্রহ করতে পারেন আপনার পছন্দের পাঞ্জাবিটি।  ট্রেডিশনাল লুকে ভিন্নতা আনতে বেছে নিন স্টাইলিশ ঘড়ি, সানগ্লাস আর স্লিপার। ব্যবহার করতে পারেন পছন্দের পারফিউম। নানান ধরনের হেয়ার জেল এবং হেয়ার মুজ ব্যবহার করে পুরুষরাও করতে পারেন নানান হেয়ারস্টাইল।

যদি এখন আপনার মনে হয়, নিজেকে সাজানোর অনেক প্রোডাক্টই আপনার কাছে নেই আর হাতে অঢেল সময়ও নেই দোকানে দোকানে ঘুরে কেনা কাটা করার মতো তাহলে একদম মন খারাপ না করে চলে যান দারাজ ওয়েবসাইটে (daraz.com.bd) এবং ঘরে বসে এক ক্লিকেই সেরে ফেলুন পহেলা বৈশাখ ১৪২৮ কে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি। সেরা দামে সেরা পণ্যগুলো আপনার জন্যই নিয়ে এসেছে দারাজ অনলাইন শপ।

পহেলা বৈশাখ সম্পর্কে আরও পড়ুনঃ
দারাজের সাথে হোক এই বৈশাখের প্রস্তুতি

order from daraz boishakhi mela campaign

পহেলা বৈশাখের ইতিহাস ও বর্তমান

বছর ঘুরে আবারও আসতে যাচ্ছে পহেলা বৈশাখ। আবারও সময় আসছে পুরাতনের গ্লানি মুছে নতুন কে স্বাগতম জানানোর। আপনাদের কি জানা আছে পহেলা বৈশাখের প্রথম কবে পালন করা হয়? কিভাবে হয় এর প্রচলন? চলুন জেনে নেই পহেলা বৈশাখের ইতিহাস

ইতিহাস!!!

পয়লা বৈশাখ বা পহেলা বৈশাখ (বাংলা পঞ্জিকার প্রথম মাস বৈশাখের ১ তারিখ) বাংলা সনের প্রথম দিন, তথা বাংলা নববর্ষ। দিনটি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নববর্ষ হিসেবে বিশেষ উৎসবের সাথে পালিত হয়। ত্রিপুরায় বসবাসরত বাঙালিরাও এই উৎসবে অংশ নিয়ে থাকে। সে হিসেবে এটি বাঙালিদের একটি সর্বজনীন লোকউৎসব হিসাবে বিবেচিত। গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে ১৪ই এপ্রিল অথবা ক্ষেত্র বিশেষে ১৫ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখ পালিত হয়।

ভারতবর্ষে মুঘল সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর সম্রাটরা হিজরী পঞ্জিকা অনুসারে কৃষি পণ্যের খাজনা আদায় করত। কিন্তু হিজরি সন চাঁদের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা কৃষি ফলনের সাথে মিলত না। এতে অসময়ে কৃষকদেরকে খাজনা পরিশোধ করতে বাধ্য করতে হত। খাজনা আদায়ে সুষ্ঠুতা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুঘল সম্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। সম্রাটের আদেশ মতে তৎকালীন বাংলার বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ ফতেহউল্লাহ সিরাজি সৌর সন এবং আরবি হিজরী সনের উপর ভিত্তি করে নতুন বাংলা সনের নিয়ম বিনির্মাণ করেন। ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ই মার্চ বা ১১ই মার্চ থেকে বাংলা সন গণনা শুরু হয়। তবে এই গণনা পদ্ধতি কার্যকর করা হয় আকবরের সিংহাসন আরোহণের সময় (৫ই নভেম্বর, ১৫৫৬) থেকে। প্রথমে এই সনের নাম ছিল ফসলি সন, পরে বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত হয়। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় আধুনিক নববর্ষ উদযাপনের খবর প্রথম পাওয়া যায় ১৯১৭ সালে।

সেই পহেলা বৈশাখের সাথে কালের রুপান্তরে যোগ হয় রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ, মঙ্গল শোভাযাত্রা, হালখাতা, পান্তা ও ইলিশ খাওয়ার প্রথা, নৌকাবাইচ, বউমেলা, ঘোড়ামেলা ইত্যাদি।

বর্তমান!!!

বর্তমানে পহেলা বৈশাখ কে ঘিরে আগের থেকেই শুরু হয় বাঙালিয়ানার রঙ্গে রাঙ্গার জন্য নানা রকম জল্পনা কল্পনা। আগেভাগেই বাঙালি মন প্রস্তুত থাকে পাঞ্জাবি ও পায়জামা, সাদা শাড়ি লালা পাড় সহ নানা রকম আয়োজনে নতুন বছরকে স্বাগতম জানাতে।

তাই বাঙালির প্রাণের উৎসবের আমেজে প্রতি বছরের ন্যায় এবারো দারাজ শপ অনলাইনে আয়োজন করতে যাচ্ছে বৈশাখের সব থেকে বড় ও ঐতিহ্যবাহী পহেলা বৈশাখ মেলা। যেখানে থাকবে আপনার পছন্দের সব পণ্যের উপর সর্বোচ্চ মূল্যছাড়! বিস্তারিত জানতে দারাজ পহেলা বৈশাখ ক্যাম্পেইনে চোখ রাখতে পারেন।

order from daraz boishakhi mela campaign

মেকআপ টিপস – কেমন হওয়া উচিত বৈশাখী সাজ?

সহজে জেনে নিন কেমন হবে এবারের বৈশাখী সাজ

কোটি বাঙ্গালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ। পহেলা বৈশাখ বা বছরের বিশেষ এই দিনটিতে বেশিরভাগ মেয়েরাই চেষ্টা করে শাড়ি-চুড়ি পরে ট্রেডিশনাল একটি লুক রাখার, আর সাথে থাকে হালকা মেক-আপের ছোয়া! কিন্তু বেজায় গরমের মধ্যে সবার একটাই চিন্তা থাকে কি করে মেক-আপ করলে তা অনেকক্ষন থাকবে আর পাশাপাশি এনে দিবে স্নিগ্ধতার ছটা। আসুন জেনে নেই কি ভাবে আমরা অল্প কিছু পণ্য ব্যবহার করেই পেতে পারি একটি অসাধারণ বৈশাখী লুক।

সবার আগে ক্লিনজিং টা আবশ্যক । কারন, প্রথমত বৈশাখের দিনটি তে থাকে প্রচণ্ড গরম, আর যাদের অয়েলি বা তেলতেলে স্কিন তাদের মেক-আপ করতে বেশ বেগ পেতে হয় তাই ভাল একটি ফেসিয়াল ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে নিলে মুখের তেলতেলে ভাব টাও চলে যাবে আর আপনার মুখে মেক-আপও বসবে বেশ সুন্দর ভাবে। ত্বকে ব্যাল্যান্স রাখার জন্যে ব্যবহার করতে হবে ময়েশ্চারাইজার এবং সেটি অবশ্যই হওয়া উচিত একটি জেল বেইসড লাইট ওয়েট ধরনের।

এবার আসি প্রিপ অ্যান্ড প্রাইমে। ফাউন্ডেশন দীর্ঘসময় ধরে রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে প্রাইমার ও কন্সিলার। প্রাইমার ব্যবহার করে আপনি মুখের ফাইন লাইন ও পোরস ঢাকতে পারবেন। আর কন্সিলার ব্যাবহার করে আপনার মুখের ও চোখের নিচের যেকোনো কালো দাগ ঢাকা যাবে সহজেই।

এরপর আসে ফাউন্ডেশন বা বেইজ মেক-আপ। ফাউন্ডেশন কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই নিজের স্কিন টোনের থেকে এক শেড হালকা কিনতে হবে এবং এইটি অ্যাপলাই করার পর উইজ করতে হবে কমপ্যাক্ট পাউডার বা ফেইস পাউডার যা আপনার বেইজ মেক-আপ কে দিবে একটি কমপ্লিট লুক।

এখন আসা যাক আই মেক-আপ কিট প্রসঙ্গে। চোখটি সুন্দর করে না সাঁজালে কিন্তু আসলে পুরো লুকটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়, তাই চোখ কে বিভিন্ন রঙ্গে রাঙ্গাতে বাব্যহার করতে পারেন কালারফুল কন্টাক্ট লেন্স। চোখের পাতায় শাড়ির রঙের সাথে মিলিয়ে ব্যবহার করতে পারেন আই শ্যাডো। আর ফিনিশিং এ আইলাইনার ও চোখ বড় দেখানোর জন্যে ভ্লিউমাইজিং মাস্কারা।

সবশেষে, ঠোঁট! বৈশাখের পুরো লুকটা যদি লাল লিপস্টিক দিয়ে শেষ করা যায় তাহলে মনে হয় মন্দ হয়না কিন্তু লিপস্টিক টা হওয়া উচিত ফুল ম্যাট যাতে তা ছড়িয়ে না যায়। সবশেষে গালে একটু গোলাপি আভার ব্লাশন দিতে ভুলবেন না প্লিজ! ব্যস হয়ে গেল খুব সহজেই মাত্র কয়েকটা প্রোডাক্ট দিয়ে একটি অ্যামেইজিং বৈশাখী লুক!

আরো পড়ুনঃ নববর্ষে বৈশাখী সাজ

css.php