eid shopping fest sale of daraz.com.bd

পবিত্র মাহে রমজানঃ রোজা শুরুর আগেই হোক প্রস্তুতি

বছর ঘুরে আবার চলে এল সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র মাহে রমজান। আসন্ন ঈদ কে ঘিরে প্রতি বছর এই সময় ঘরে ঘরে আসে একটা আনন্দের আমেজ এবং তার সাথে থাকে ঈদ নিয়ে নানানরকম জল্পনা-কল্পনা। এই সময়টায় সাধারণ জীবনযাত্রায় চলে আসে আমূল পরিবর্তন, কিছুটা পরিকল্পনা মাফিক চলাফেরা করলে রমজান মাসটা কাটানো যাবে স্বস্তি আর স্বাচ্ছন্দ্যে। তাই আজকে আমি আপনাদের সুবিধার্থে দিয়ে দেব কিছু রমজানের টিপস এবং আইডিয়া।

প্রতিবারের মত এবারও রমজান মাসে, বাইরের তাপমাত্রা খুব একটা সহনীয় থাকবে না, তাই চেষ্টা করুন আগে থেকে রান্নার প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে রাখতে যাতে রোজা রেখে অযথা জ্যাম ঠেলতে না হয়। সময় বাঁচাতে চাইলে ঘরে বসে দেশের সবচেয়ে বড় অনলাইন শপিং মল দারাজেই সেরে ফেলতে পারবেন যাবতীয় কেনাকাটা।

দুঃসহ গরমে ইফতারের সময় এক গ্লাস ঠাণ্ডা জুস দূর করতে পারবে সারাদিনের ক্লান্তি। বাজারের কৃত্রিম উপাদানে তৈরি জুস না কিনে, তাজা ফলের রস খেতে চেষ্টা করুন এতে আপনি আরও সতেজ অনুভব করবেন। নিত্যদিন জুস বানানোর জন্য রমজানের আগেই কিনে নিতে পারেন জুসার ও ব্লেন্ডার মেশিন, যাতে প্রথম রোজার ইফতার শুরু করতে পারেন একটি স্বাস্থ্যপ্রদ উপায়ে।

রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই কিছুটা সেমি- প্রসেসে করে রাখতে পারেন ইফতারের বৈচিত্র্যময় আইটেম। এতে করে ইফতারের মেনুতে একঘেয়েমি আসবে না এবং রোজা রেখে আপনার সারাদিন রান্নাঘরে কষ্ট পোহাতে হবে না। খাবার প্রস্তুত করার জন্য দারাজের গ্রোসারি ক্যাটাগরিতেই পাবেন হরেক রকম মাছ, মাংস এবং নানা পদের সবজিজাত দ্রব্য।

প্রতিদিন রান্নায় নতুনত্ব আনা বেশ কঠিন হয়ে যাই, যখন অন্য হাজারো চিন্তা থাকে ঈদকে ঘিরে। সেক্ষেত্রে রমজানের আগেই তৈরি করে ফেলুন একটি সাপ্তাহিক মেনু প্ল্যান। এই প্ল্যান মেনে চললে, রোজ আপনার খাদ্য তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন, ফ্যাট এবং শর্করার পরিমাপ নিশ্চিত করতে পারবেন।

বছরের সবচেয়ে বড় উৎসবের প্রস্তুতি নিতে রমজানের আগেই সাজিয়ে ফেলুন আপনার বাজেট। প্রতি ক্ষেত্রে কতটা ব্যয় করবেন, যেমন চাকুরীজীবীদের ক্ষেত্রে ঈদ বোনাস এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে বাড়তি ইনকাম বিশাল একটা ভূমিকা পালন করে বাজেট প্ল্যানিং-এ। একটু সময় করে বাজেট নিয়ে ভাবলে টাকা-পয়সা নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা মনে ভর করবে না। যেহেতু বাজেট প্ল্যানিং নিয়ে বলছি, একটা কথা অবশ্যই বলব দারাজ অনলাইন শপিং ওয়েবসাইটে(daraz.com.bd) চোখ রাখতে। পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে নানানরকম আকর্ষণীয় দামে এবং মূল্যছাড়ে পেয়ে যাবেন পছন্দের পণ্য আপনার স্বাদ এবং সাধ্যের মধ্যেই। রমজান ও ঈদের কেনাকাটা সহজে করতে চোখ রাখতে পারেন দারাজ ঈদ শপিং ফেষ্ট ক্যাম্পেইনে।

অবশেষে, উপরে উল্লেখিত টিপস অনুযায়ী রমজানের প্রস্তুতি নিলে আশা করি, বেশ আরামসেই কেটে যাবে এই বছরের রমজান মাস, এরপর শুধু থাকবে অধীর আগ্রহ নিয়ে রোজার ঈদের অপেক্ষা।

order ramadan grocery essentials from daraz.com.bd

ইফতারের সময় কোনভাবেই কুলিয়ে উঠতে পারছেন না? বেশ ঝটপটে ও সহজ ৬ টি সমাধান দেখে নিন!

রমজানুল মুবারক! পবিত্র মাহে রমজান মাসে ইবাদত-বন্দেগি সহ অনেকরই বিভিন্ন রকম কর্ম-ব্যস্ততা থাকে। এর মধ্য থেকে ইফতার গোছানোর জন্য পর্যাপ্ত সময়ের সংকুলান সকলের জন্যই সবসময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাগরিবের আযানের আগেই টেবিলে সব খাবার পরিবেশন করা বিরাট চ্যালেঞ্জ মনে হতে পারে। তবে এত সব ঝামেলা থেকে রেহাই পেতে আপনাদের জন্য থাকছে খুবই সহজ ও ঝটপটে ইফতার বানানোর কিছু কৌশল। যার মাধ্যমে অতি দ্রুত সময়ে একদিকে যেমন আপনার সব ইফতার আইটেম প্রস্তুত হয়ে যাবে, অন্যদিকে ইবাদহ সহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য বাঁচবে কিছু মূল্যবান সময়!

কম সময়ে ইফতার বানানোর কিছু দ্রুত ও সহজ রেসিপি দেখে নিনঃ

পিয়াজু বা পিয়াজি ঝটপট বানিয়ে ফেলুন

রমজান মাসে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের টেবিলে পিয়াজু না পেলে ভাল লাগবে? তবে এত বেশি চিন্তার কিছু নেই, পিয়াজি এখন খুব সহজ উপায়ে বানাতে পারবেন ঘরে বসে!

পিয়াজু রেসিপি – উপকরণঃ

  • যেকোন ডাল (প্রয়োজন মাফিক)
  • পেঁয়াজ
  • ডিম
  • কাঁচা মরিচ
  • জিরা গুঁড়া (আধা চা চামচ)
  • রসূন বাটা (আধা চা চামচ)
  • রাঁধুনি গরম মসলার গুঁড়া
  • খাবার সোডা (এক চিমটি)
  • হলুদ (পরিমাণ মাফিক)
  • লবণ (পরিমাণ মাফিক)

পিয়াজু রেসিপি – প্রস্তুত প্রণালীঃ

মসুর ডাল অথবা যেকোন ডাল পানিতে ভিজিয়ে নরম করে ব্লেন্ডার এর মাধ্যমে অথবা শিলপাটায় বেটে নিন। গরম মসলা, লবণ, হলুদ, কাঁচা ডিম ও খাবার সোডার সাথে পেঁয়াজ কুচি, মরিচ কুচি, ডাল, জিরা গুঁড়া ও রসূন বাটার মিশ্রণটি ভালভাবে মাখিয়ে নিন। প্যান অথবা লোহার কড়াইয়ে গরম তেলের মধ্যে বাদামি হওয়ার আগ পর্যন্ত ভাঁজতে থাকুন, এরপর লাল কালার চলে আসলে গরম গরম পিয়াজু ডাইনিং টেবিলে পরিবেশন করুন।

আলুর চপ খুব সহজে বানিয়ে ফেলুন

ইফতারের প্লেটে পিঁয়াজুর পাশাপাশি আলুর চপ না থাকলে কি ইফতার জমে? তাই আপনার ইফতারেও একটা দেশি ফ্লেভার যোগ করতে বানিয়ে ফেলুন আলুর চপ খুব সহজে।

আলুর চপ রেসিপি – উপকরণঃ

  • আলু সিদ্ধ (পরিমাণ পছন্দানুসারে)
  • ডিম
  • পেঁয়াজ কুঁচি
  • ধনিয়াপাতা কুঁচি
  • কাঁচামরিচ কুঁচি
  • রসুন বাটা (পরিমাণ মত)
  • জিরা গুঁড়া (পরিমাণ মত)
  • ধনিয়া গুঁড়া (পরিমাণ মত)
  • পাঁচফোড়ন বাটা ১-২ চা চামচ
  • লবণ (পরিমাণ মত)
  • তেল (১ টেবিল চামচ)
  • টেস্টিং সল্ট (পরিমাণ মাফিক)

আলুর চপ রেসিপি – প্রস্তুত প্রণালীঃ

আলু সিদ্ধ করে ভালভাবে ভর্তা করে নিন। প্যানে সামান্য তেলে পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচ কুঁচির সাথে ডিম ভেজে নিন, মসলা গুলো মিশিয়ে কিছুক্ষণ নাড়াচড়া করে নামিয়ে ফেলুন। এগুলোর সাথে আলু ভর্তা ও ধনিয়া পাতা মিশিয়ে ভাল করে মেখে চপ তৈরী করে ফেলুন। 

ঘুগনি তৈরী করুন বাসায় বসে

ইফতারে মুড়ির সাথে ঘুগনি খেতে ইচ্ছা হলে সেই ইচ্ছা পূরণ হবে এখন বাসাতে। খুব সহজে এবং অল্প সময়ে এই মজাদার ঘুগনি বানিয়ে ফেলা সম্ভব।

ঘুগনি রেসিপি – উপকরণঃ

  • মটর ডাল (প্রয়োজন অনুসারে)
  • আলু 
  • টমেটো
  • পেঁয়াজ
  • কাঁচামরিচ
  • আদা বাঁটা (১ চা চামচ)
  • রসূন বাঁটা (১ চা চামচ)
  • জিরা গুঁড়া (পরিমাণ মাফিক)
  • হলুদ গুঁড়া (পরিমাণ মাফিক)
  • লবণ (পরিমাণ মাফিক)
  • সরিষার তেল (পরিমাণ মাফিক)

ঘুগনি রেসিপি – প্রস্তুত প্রণালীঃ

কমপক্ষে ৮ ঘন্টা যাবত ভেজানো মটর ডাল খুব ভাল করে সিদ্ধ করে নিতে হবে। প্যানে গরম তেলে পেঁয়াজ কুঁচি, টমেটো ও আলু কুঁচি এবং আদা ও রসূন বাটা দিয়ে নাড়তে হবে। মটর ডাল সিদ্ধ হলে কাঁচামরিচ সহ লবণ, হলুদ গুঁড়া ও জিরা গুঁড়া মিশিয়ে ভালভাবে কষিয়ে নিতে হবে। এরপর পরিমাণ মত পানি দিয়ে কিছুক্ষণ ঢেকে রাখুন, পানি শুকিয়ে মাখো মাখো অবস্থায় আসলে নামিয়ে ফেলুন।  

মজাদার হালিম রান্না এখন আরও সহজ

এই রমজানে হালিম খেতে যদি খুব বেশি ইচ্ছা করে, নিরাশ হওয়ার কিছু নেই। দোকানের হালিমের থেকেও আরও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে হালিম রান্না করা সম্ভব খুব সহজে ঘরে বসেই।

হালিম রেসিপি – উপকরণঃ

মুগ, মাসকলাই ডাল, মসুর ডাল আর পোলাও চাল পরিমাণ মাফিক
মাংস ১ কেজি কিংবা অধিক
পিঁয়াজ ৩-৪টি (বেরেস্তা করার জন্য)
পেঁয়াজ বাটা ২ টেবিল চামচ
আদা বাটা ২ টেবিল চামচ
রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ
হলুদ ও মরিচ গুঁড়া ২টা মিলিয়ে ২ টেবিল চামচ
গরম মশলা গুঁড়া ১ টেবিল চামচ
জিরা গুঁড়া ২ চা চামচ
ধনিয়া গুঁড়া ২ চা চামচ
ধনিয়া পাতা কুচি পরিমাণ মতো
আদা কুচি পরিমাণ মতো
তেল পরিমাণ মতো
লবণ পরিমাণ মতো

হালিম রেসিপি – রান্নার ধরণ

প্রথমে মুগ ডাল, মাসকলাই ডাল, মসুর ডাল আর পোলাও চাল মিলিয়ে আধা কেজির মত পরিমাণের সাথে এক কাপ পরিমাণ গম রেডি করুন। এসব উপাদান শিল পাটায় অথবা ব্লেন্ডারে গুঁড়ো করে নিন।

এরপর মাংসের সাথে সব মশলা মিশিয়ে কমপক্ষে আধাঘণ্টা মেরিনেট করে রাখুন। বড় পাতিলে তেল দিয়ে মাখানো মাংসের পিসগুলা কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করুন। এখন গুড়ো করে রাখা সব ডাল ও গম এর মিশ্রণটি ৫ কাপ গরম পানি ও মশলার সাথে মিশিয়ে ভালোভাবে নাড়াচাড়া করে নিন। 

এভাবে ঠিক অল্প আঁচে ১ ঘন্টা যাবত রান্না করুন এবং মাঝে মাঝে নাড়তে থাকুন। কিছুক্ষণ পরে ঘন হয়ে আসলে নামিয়ে ফেলুন। হালিম পরিবেশনের সময় উপরে ধনিয়া পাতা ও আদা কুচি, কাঁচা মরিচ এবং পেঁয়াজ বেরেস্তা দিয়ে পরিবেশন করতে পারেন।

শরবত মিক্স রেডি হবে চোখের পলকে

আপনার ইফতার মেন্যুতে এত এত সুস্বাদু পদের ভিড়ে কোন শরবত না থাকলে কি চলে? শরবত ছাড়া ইফতার তো অনেকটা সুপারি ছাড়া পানের মত! আর শরবত বানানোর মত এত সহজ কাজ তো ঝামেলা মনে করে এড়িয়ে যাওয়ার মত নয়।

শরবত রেসিপি – উপকরণঃ

  • পরিমাণ মত পানি
  • চিনি
  • লেবু
  • সামান্য লবণ
  • যেকোন শরবত আইটেম

শরবত রেসিপি – বানানোর উপায়

একটি পাত্রে পরিমাণ মত পানি নিয়ে পর্যাপ্ত চিনি গুলিয়ে নিন। এরপর লেবু নিঙড়ানো রস এর সাথে সামান্য লবণ মিশিয়ে নিন। আপনার পছন্দানুসারে এই মিশ্রণে রুহ আফজা, ট্যাং সহ যেকোন শরবত আইটেম মেশাতে পারেন, মিশ্রণটি পানিতে পুরোপুরি মিশে যাওয়া অবধি নাড়তে থাকুন। ব্যাস হয়ে গেল আপনার স্বাদ মুখে লেগে থাকার মত ঝটপট শরবত! 

দই চিড়া রেডি করুন এক নিমিষে

সারাদিন রোজা রাখার পর দই চিড়া খেতে ইচ্ছা করছে? তবে সেই ইচ্ছা কেন মাটি হবে? যেহেতু পেট ঠান্ডা রাখার মত উপকার এটাতে বিদ্যমান এবং প্রস্তুত প্রণালীও খুব সোজা, তাই কপালে চিন্তার ভাজ না ফেলে দই চিড়া বানাতে বসে যাওয়াই ভাল।

দই চিড়া রেসিপি – যা লাগবেঃ

  • চিড়া পরিমাণ অনুসারে
  • দই পরিমাণ মত
  • কলা (পছন্দ অনুসারে)
  • চিনি পরিমাণ মত
  • লবণ সামাণ্য পরিমাণে

দই চিড়া রেসিপি – বানাবেন যেভাবেঃ

একটি পাত্রে পরিমাণ অনুসারে আগে থেকে ভেজানো চিড়া ও দই নিন। পছন্দ অনুসারে কিছু কলা স্লাইস করে কেটে দিন। পরিমাণ মত চিনি ও খুব সামাণ্য পরিমাণে লবণ মিশিয়ে নিন। এখন আপনার স্টাইলে এটা মিক্স করে খাওয়ার উপযোগী করে নিন। কি খুব সহজ না? ওহ সাথে কয়েকটি খেজুর রাখতে ভুলবেন না কিন্তু!

আপনার ইফতার কি এখন রেডি? তাহলে রমজানের আরও কিছু গ্রোসারি পণ্য সামগ্রী কিনতে চোখ রাখতে পারেন এই পোস্টেঃ

 রমজানের গ্রোসারি শপিং কেন ডি মার্ট থেকে করবেন? 

dMart logo - সেরা পণ্য সেরা দামে, বাজার হবে ঘরে বসে

sehri_for_ramadan-daraz.com.bd

তীব্র গরমে সেহেরীর খাবার তালিকা যেমন হওয়া উচিৎ

বছর ঘুরে আবারও দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেছে পবিত্র মাহে রমজান। এসময় ভোর রাতের সেহেরী থেকে ইফতারের মাধ্যমে রোজা ভাঙ্গার আগ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকতে হয়। তাই সেহেরী হতে হবে পরিকল্পিত ও স্বাস্থ্যকর যেন সারাদিন রোজা রাখার শক্তি পাওয়া যায়। বিশেষ করে এবারের কাঠফাটা গরমে আলাদাভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে সেহেরীর খাবার তালিকার দিকে- নইলে অসুস্থ হয়ে পড়াসহ দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেওয়াটা মোটেও বিচিত্র নয়। অনেকেই আবার সারাদিন না খেয়ে থাকতে হবে বলে সেহেরীতে যত বেশি সম্ভব খেয়ে নেওয়া যায়- এমন পন্থা অবলম্বন করেন যা মোটেও স্বাস্থসম্মত নয়। বরং সেহেরীর খাবার এমন হওয়া দরকার যেন তা সারাদিনের দেহের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারে, আবার এত অতিরিক্ত খাওয়াটাও উচিৎ না, যা আপনাকে অসুস্থ করে ফেলে।

সেহেরীতে সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাবার তালিকা তৈরীতে যেসব বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখা দরকার

সেহেরিতে যেসব খাবার খাওয়া যেতে পারে-

ভাত – রুটি

সেহেরি হচ্ছে রমজানের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় খাবার। এতে এমন ধরণের খাবার খাওয়া উচিৎ, যা হজম হতে সময় লাগে এবং দীর্ঘক্ষণ কর্মশক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে। একারণে সেহেরির খাদ্য তালিকায় শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট সম্পন্ন খাবার রাখা উচিৎ। কারণ কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার ধীরে ধীরে রক্তে গ্লুকোজ দেয় এবং খাদ্যে আঁশের চাহিদা জোগায়। ঢেঁকিছাঁটা চাল, লাল আটার রুটি, আলু, চিড়া, ওটস, সিরিয়াল, বার্লি -এই খাবারগুলোতে যথেষ্ট পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট থাকে। এছাড়া ধীরগতিতে হজম হয় এবং হজম হতে প্রায় ৮ ঘণ্টা লাগে বলে এসব খাবার খেলে দিনের বেলায় কম ক্ষুধা লাগে। তাই সেহেরীর খাদ্য তালিকার একটা বড় অংশ জুড়ে এসব খাবার রাখলে তা আপনাকে রোজার দীর্ঘ উপবাসের সময়ও সারাদিন সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখবে।

প্রোটিন জাতীয় খাবার

সেহরিতে আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাবার থাকলে তা আপনার দেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সারাদিন আপনাকে শক্তি যোগাবে। মাছ, মাংস, দুধ, দুধজাত খাবার, ডিম, ডাল প্রভৃতি খাবার প্রোটিনের ভালো উৎস। এছাড়া এসব খাবারে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, জিংক, আয়রন প্রভৃতি পুষ্টি উপাদানও প্রচুর পরিমাণে থাকে, যা আপনার হাড়ের সুস্থতার জন্য জরুরি। বিশেষ ভাবে সেহেরীতে দুধ আপনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ খাবার হতে পারে। লো ফ্যাট দুধ রক্তের কোলেস্টেরল বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া দুধজাতীয় বিভিন্ন খাবার যেমন দই, ছানা প্রভৃতি কিংবা কলা ও আম সহ দুধভাত রোজার সময়ে আপনার শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগাবে। মাছ বা মাংসের বদলে সেহেরীর খাবারে একটি ডিম থাকলেও তা আপনাকে প্রয়োজনীয় শক্তির চাহিদা পূরণ করতে পারে।

তাজা সবজি

ভিটামিন শরীরের জন্য খুবই দরকারী একটি পুষ্টি উপাদান। তাজা শাকসবজি দেহের প্রয়োজনীয় ভিটামিনের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস। তাই সেহরিতে প্রতিদিন সবজি খাওয়া উচিৎ। তবে রাতের খাবারে অতিরিক্ত আঁশযুক্ত সবজি খাওয়া ঠিক না। কারণ অতিরিক্ত ফাইবার সমৃদ্ধ সবজি হজমের ঝামেলা করতে পারে। তার বদলে সেহেরীতে মাঝারি আঁশের সবজি যেমন- ঝিঙে, চিচিংগা, লাউ, পেঁপে, চালকুমড়া, গাজর প্রভৃতি খাওয়াটা বেশি স্বাস্থ্যসম্মত।

ফলমূল

সেহেরীর খাবারের পর ফল খেলে তা দিনের বাকী সময়টায় আপনার শরীরের প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা পূরণ করতে সাহায্য করবে। তবে এক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা উচিৎ। ভোররাতে টক জাতীয় ফল না খাওয়াই ভালো। এর ফলে অ্যাসিডিটির ঝুঁকি বাড়ে। মাঝারি আঁশযুক্ত ও নরম পাকা ফল এক্ষেত্রে বেশি উপকারী। পেঁপে, কলা, আম ইত্যাদি অথবা বিভিন্ন মৌসুমী ফলের ও দুধের তৈরি কাস্টার্ড খাওয়া যেতে পারে। এইসব সুস্বাদু ফল ও ফলজাত খাবার দেহের পুষ্টি উপাদান ও পানির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দীর্ঘসময় শরীরের শক্তি যোগায়।

তরল জাতীয় খাবার

রোজা রাখার অন্যতম স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা হচ্ছে শরীরের পানি ঘাটতি। তাই যেসব খাবার পানিশূণ্যতা দূর করে, সেহেরির খাদ্য তালিকায় সেসব খাবার যোগ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ডাবের পানি, শসা, আনারস, টমেটো, কমলা ও তরমুজ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য হতে পারে। এছাড়া সেহেরিতে পর্যাপ্ত পরিমান পানি পান করা উচিৎ যেন সারাদিনের পানি ঘাটতি পূরণ হয়। তবে তাই বলে গলা পর্যন্ত পানি পান করা উচিৎ না। বরং কিছুটা ফাঁকা রাখুন। খুব ঠান্ডা এবং খুব গরম পানি পান করা উচিৎ না। এ ছাড়া তরল খাবার হিসেবে দুধ, পাতলা সাগু, সাবু বা বার্লি, সুজি, স্যুপ, আঙ্গুরের রস ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে সেহেরীতে। জুসের জন্য বাইরে থেকে কেনা জুস না খেয়ে বাড়িতে ব্লেন্ডার মেশিন দিয়ে ফলের রস কিংবা জুস বানিয়ে নেয়া উত্তম।

সেহেরীতে যেসব খাবার এড়িয়ে চলাই ভাল-

সেহেরির সময় বেশি তৈলাক্ত, মসলাদার এবং ঝাল খাবার খাওয়া উচিৎ না। সেক্ষেত্রে সেহেরির খাদ্য তালিকা থেকে বিরিয়ানী, পোলাও, তেহারি প্রভৃতি ভারি ধরণের খাবার বাদ দিতে পারেন। কারণ সেহেরীতে এসব খাবার খেলে বদহজম, বুক জ্বালাপোড়া করা এবং পেট ফাঁপার সমস্যা হতে পারে। অনেকেরই সেহরিতে চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস আছে। কিন্তু এসব পানীয়তে ক্যাফেইন থাকে, যা মূত্রের পরিমাণ বাড়ায়, ফলে শরীরের পানির পরিমাণ কমে যায় এবং খুব তাড়াতাড়ি তৃষ্ণা পায়। তাই সেহেরিতে এসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিৎ। পানিশূণ্যতা বাড়ায় বলে সেহেরির সময় অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার খাওয়া উচিৎ নয়।

প্রচন্ড গরমে রোজা রেখে সুস্থ থাকতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই সেহেরির খাবারের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ সঠিক খাদ্যাভাস না মেনে রোজা রাখলে খুব সহজেই অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। বিশেষ করে দেহে পানিশূন্যতা যাতে না হয় সেজন্য বেশি খেয়াল রাখতে হবে। আর অবশ্যই রোজা রাখতে চাইলে সেহেরি খাওয়ার ব্যাপারে কোনো ছাড় দেবেন না। তাহলে আশা করি এই গরমেও রোজা রাখতে খুব বেশি সমস্যায় পড়বেন না।

আরো দেখুনঃ ইফতার খাবার তালিকা

iftar_for_ramadan-daraz.com.bd

পবিত্র মাহে রমজানে সুস্থ থাকতে চাই স্বাস্থ্যকর ইফতার

বাইরে এখন গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদ। এর মধ্যেই বছর ঘুরে হাজির হয়েছে পবিত্র মাহে রমজান। তাই বলে কি রোজা রাখবেন না? এই গরমে সারাদিন না খেয়ে থাকাটা স্বাস্থ্যের জন্য বিরাট ঝুঁকি হতে পারে যদি না ইফতারের সময় টেবিলে থাকে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার। ইফতারে পুষ্টিকর খাবার মেনু শুধু আপনার সারাদিনের পুষ্টির চাহিদাই পূরণ করবে না, সাথে যোগাবে সুস্থ শরীরে পরের দিন রোজা রাখার শক্তি। তাই শুধু ইফতার ও সেহরীর সময়সূচী ২০১৯ জানলেই হবে না, সেই সাথে জানতে হবে কিভাবে গরমের মধ্যেও ইফতারের সঠিক নিয়ম মেনে সুস্থ থাকতে হয়।

রমজান মানেই টেবিলভর্তি বিভিন্ন মজাদার ইফতার আয়োজন। ঘরে ঘরে গৃহিণীদেরও ইচ্ছে থাকে ইফতারের আয়োজনটা হোক কিছুটা আলাদা। তাই রোজার মাস এলেই চারিদিকে দেখা যায় হরেক রকমের ইফতার আইটেম এর রেসিপি। কিন্তু প্রায়ই আমরা ইফতারের গুরুত্বকে অবহেলা করে অস্বাস্থ্যকর ইফতার রেসিপিতে ভর্তি করে ফেলি ইফতারি খাবার টেবিল- যা একেবারেই অনুচিত। এছাড়া আমাদের দেশে সারাদিন না খেয়ে থেকে ইফতারে তেলে ভাজা ও চর্বি সমৃদ্ধ খাবারের অভ্যাস দেখা যায়, যা তৈরী করতে পারে মারাত্নক স্বাস্থ্য ঝুঁকি।

এই গরমে ইফতারের খাবার উপাদান হিসেবে যেসব আইটেম থাকা দরকার প্রতিদিনকার ইফতারি আয়োজনে

পুষ্টিকর পানীয়

রমজান এলেই বিভিন্ন আকর্ষণীয় ইফতার রেসিপি দেখা যায় টিভিতে, পত্রিকায়, সবখানে। কিন্তু সেই তুলনায় পুষ্টিকর তরল খাবার নিয়ে সচেতনতা দেখা যায় না। অথচ গরমে সারাদিন রোজা রাখলে দেহে দেখা দেয় মারাত্নক পানিশূন্যতা। শরীরের পানির এই ঘাটতি পূরণ করতে ইফতারে বেশি করে পুষ্টিকর পানীয় রাখতে হবে। ইফতারে পানীয় হিসেবে রুহ আফজা, ট্যাং ও লেবুর সরবত জনপ্রিয়। কিন্তু দেহের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে ইফতার টেবিলে রাখতে পারেন বিভিন্ন তাজা ফলের জুস, লেবু পানি, কচি ডাবের পানি, আখের রস ও গুড়ের শরবত প্রভৃতি। এছাড়া শরবত তৈরিতে ব্রাউন সুগার, তাল মিছরি, গুড় ও মধুর ব্যবহার আপনার পানির চাহিদার পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদাও পূরণ করবে শতভাগ।

মৌসুমী ফল

বর্তমানে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে আম, লিচু, জাম, কাঁঠাল, আনারস সহ গ্রীষ্মের বিভিন্ন মৌসুমী ফল। আমাদের দেশে ইফতার ফল দিয়ে করার খুব একটা প্রচলন নেই। যদিও পৃথিবীর অনেক দেশেই ইফতারে ফলাহার করার রীতি রয়েছে। এইসব মৌসুমি ফল একইসাথে সুস্বাদু, পুষ্টিকর ও পানিশূন্যতা দূর করতে অতুলনীয়। কারণ ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পানি, ভিটামিন ও মিনারেল, যা আপনাকে এই গরমে রাখবে সুস্থ। এছাড়া ফলের তৈরী বিভিন্ন খাবার ও মিষ্টিজাতীয় ডেজার্ট রাখতে পারেন ইফতারের উল্লেখযোগ্য খাবার হিসেবে।

কাঁচা ছোলা

বাংলাদেশে ইফতারে ছোলা একটি জনপ্রিয় খাবার। ছোলায় প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে। তবে অতিরিক্ত তেল ও মসলায় ভুনা ছোলা অনেক সময় উপকারের থেকে ক্ষতিই করে বেশি। তারচেয়ে বেশি উপকার পেতে পারেন কাঁচা ছোলায়। ছোলা ভাল করে ধুয়ে সারারাত ভিজিয়ে ইফতারের আগে আগে পেঁয়াজ, রসূন, মরিচ, আদা ও খাঁটি সরিষার তেল দিয়ে ভালো করে মাখিয়ে পরিবেশন করতে পারেন। এছাড়া সিদ্ধ ছোলার সাথে পেঁয়াজ, মরিচ, শশা, টমেটো ইত্যাদি মিশিয়ে খেলেও অনেক খাদ্য আঁশ ও প্রোটিন পাওয়া যায়, যা আপনার ক্লান্ত শরীরে যোগাবে প্রয়োজনীয় প্রাণ শক্তি।

মিষ্টি জাতীয় খাবার

ইফতারে চিড়া, খেজুর ও আখের গুড়, পাটালি, জিলাপি ও বন্দিয়া জাতীয় খাবারের প্রচলন রয়েছে আমাদের দেশে। তবে ইফতারিতে একটি আদর্শ খাবার হতে পারে দই-চিড়া ও দুধ-চিড়া অথবা কলা-চিড়া ও আম-চিড়া। এইসব খাবার পেট ঠান্ডা রাখে ফলে গ্যাসের সমস্যা হওয়ার সম্ভবনা থাকে না। তাই সেহরি ও ইফতারের খাবার হিসেবে এই ধরণের খাবার বেশি পরিমাণে রাখতে পারেন মেনুতে। এছাড়া পরিমিত পরিমাণে মিষ্টান্নের সাথে দুধের তৈরি মিষ্টি জাতীয় খাবার যেমন ফালুদা, কাস্টার্ড, পুডিং, ফিরনি বা পায়েস ও সেমাই ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে চা-কফি কিংবা পেট গরম করে এমন খাবারের পরিমাণ যত কম খাওয়া যায় ততই মঙ্গল।

শাকসবজি

উচ্চ ভিটামিন সমৃদ্ধ শাকসবজি আপনাকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগায়, যা আপনার শরীরের জন্য অতি দরকারি। তাই মাঝে মাঝে চকবাজারের ইফতার খেতে পারেন, কিন্তু খেয়াল রাখবেন অধিকাংশ সময়ই যেন ইফতার আলুর চপ, অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার, হালিম, বিরিয়ানি প্রভৃতি কম থাকে। তারচেয়ে সবজি পাকোড়া, সবজীর স্যুপ, শাকের বড়া, বেগুনী ও রসূনের চপ প্রভৃতি খাবার বেশি উপকারি হতে পারে।

– এছাড়া ইফতারের ক্ষেত্রে যেসব বিষয় মনে রাখতে পারেন –

  • মাগরেবের আযান পড়ার সাথে সাথে খুব তাড়াহুড়া করে অধিক পরিমাণে ইফতার করা উচিৎ নয়। কারণ সারাদিন না খেয়ে থাকার পর একসাথে অনেক বেশি খাবার আপনার জন্য অপকারী হতে পারে। ধীরে ধীরে সময় নিয়ে ইফতার করুন।
  • অনেকেই ডায়েট ইফতার করেন যেটা একেবারেই উচিৎ না। সারাদিন না খেয়ে থেকে এমনিতেই আপনার শরীর দুর্বল থাকে। তাই ইফতারে ডায়েট না করে সুষম খাবার গ্রহণের প্রতি মনযোগী হওয়া উচিৎ।
  • চেষ্টা করবেন ইফতারে যেন সব ধরণের খাদ্য উপাদান থাকে।
  • ইফতারে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া ঠিক না। তারচেয়ে অল্প বিরতিতে কিছুক্ষণ পর পর খাবার গ্রহণ করতে পারেন।
  • ইফতার করার পরপরই ঘুমিয়ে পড়বেন না। কিছুটা হাঁটাচলা করুন।
  • প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন, ইদানিং গরম বেশি বলে আগেই পানি ফ্রিজ এ রাখতে পারেন কিংবা ফ্রিজের বরফ ব্যবহার করা যেতে পারে। মনে রাখবেন রোজা রাখার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পানিশুন্যতা, যা আপনাকে হিটস্ট্রোকের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তবে শুরুতেই একসাথে অনেক পানি পান করা অনুচিৎ।

আরো দেখুনঃ সেহেরীর খাবার তালিকা

css.php